২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় গত জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে জ্বালানি জায়ান্ট শেভরনের আয় কমেছে। তবে আয়ের অংক ওয়াল স্ট্রিটের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে গেছে। এছাড়া কোম্পানির জন্য সুখবর হলো পরিশোধন ব্যবসা গত বছরের শেষ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) লোকসানের সম্মুখীন হলেও এবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। খবর রয়টার্স।
শেভরনের চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) ইমিয়ার বোনার জানিয়েছেন, কোম্পানিটি চলতি বছর ১ হাজার ১৫০ কোটি থেকে ১ হাজার ৩০০ কোটি ডলারের শেয়ার পুনঃক্রয় করতে পারে। এটি কোম্পানির পূর্বঘোষিত ১-২ হাজার কোটি ডলার সীমার মধ্যেই পড়ে।
বছরের প্রথম প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল উৎপাদক শেভরনের সমন্বিত আয় দাঁড়িয়েছে ৩৮০ কোটি ডলার, যা শেয়ারপ্রতি ২ ডলার ১৮ সেন্ট। এলএসইজির ডাটা অনুযায়ী, এ আয় বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে গেছে। তবে গতকাল আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রি-মার্কেটে শেভরনের শেয়ারদর কমে প্রায় ১ শতাংশ। কারণ পরিশোধন ও জ্বালানি তেল-গ্যাস উৎপাদন থেকে মুনাফা আগের বছরের তুলনায় কম ছিল।
শেভরন ও অন্যান্য জ্বালানি তেল উৎপাদকরা ২ এপ্রিল থেকে ক্রুডের দাম কমার চাপ মোকাবেলা করছে। এদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন, যা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে কমিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কম দামের কারণে জ্বালানি তেল কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ বিতরণ ও শেয়ার পুনঃক্রয়ের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্নে উঠেছে। কারণ এতে মূলধনি ব্যয়ের ঘাটতি তৈরি হয়। শেভরন জানিয়েছে, তারা প্রথম প্রান্তিকে ৩০০ কোটি ডলার লভ্যাংশ এবং ৩৯০ কোটি ডলারের শেয়ার পুনঃক্রয় করেছে। এছাড়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে ২০০-৩৫০ কোটি ডলার শেয়ার পুনঃক্রয় করতে পারে।
চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলন থেকে শেভরনের আয় দাঁড়িয়েছে ৩৭৬ কোটি ডলার, যা ২০২৪ সালের একই সময়ে ছিল ৫২৪ কোটি ডলার। শেভরনের পরিশোধন ব্যবসা ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছে, যা আগের বছরের ৭৮ কোটি ৩০ লাখ ডলারের তুলনায় কম। তবে এটি ডিসেম্বরে শেষ হওয়া প্রান্তিকের লোকসানের তুলনায় সুস্পষ্ট অগ্রগতি, ২০২০ সালের পর প্রথমবার ওই প্রান্তিকে লোকসান দেখেছিল কোম্পানিটি। পাঁচ বছর আগের ওই প্রান্তিকে কভিড-পরবর্তী চাহিদা হ্রাসের কারণে লোকসানে পড়েছিল শেভরন।